ধর্মানুভূতি মস্তিষ্কের এলার্জি নয়তো......
By Shiplu Kumar Barmon
Writer & seeker
ধর্মানুভূতি একটি অলীক বস্তু । পৃথিবীতে অসংখ্য ধর্ম আছে, সেই সব ধর্মে আবার নানা ধরনের গৌত্র, উপগোত্র রয়েছে। কার কোনটাতে আঘাত লাগছে, এটা বলা মুশকিল। একজন খাঁটি মুসলমানের মন্দির দেখে অনুভুতি আঘাত লাগতে পারে, আবার একজন গোঁড়া হিন্দুর মসজিদের আজান শুনলেও গায়ে এলার্জি তৈরি হতে পারে। যে অনুভূতি এতো ঠুনকো, টোকা লাগলেই শুয়ে পড়তে চায়, তার কি টিকে থাকার আদৌ কোন দরকার আছে? যে অনুভূতিতে এতো সামান্যতেই আঘাত লাগে তাকে মন থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়াটাই কি যুক্তি সঙ্গত নয়?
তা না আজগুবি এই মহা নাজুক অনুভূতিকে আশ্রয় এবং প্রশ্রয় দেবার জন্য রাষ্ট্র এবং সমাজ উঠে পড়ে লেগেছে। আর তার সুযোগ নিয়েই এই অনুভূতির মৌলবাদীরা প্রতি পদে পদে তাদের অনুভুতিতে আঘাত লাগছে, অনুভূতিতে আঘাত লাগছে বলে হইচই করে হুটহাট নালিশ জানাচ্ছে, অন্যদের উপর আক্রমণ করছে, ভয়-ভীতি দেখিয়ে মানুষের বাক-স্বাধীনতাকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে, একদিন মন খুলে কথা বলতেও ভয় পাবে মানুষ, লেখাতো অনেক দূরের কথা।
একটা সুস্থ, সুন্দর, ধর্মনিরপেক্ষ এবং প্রগতিশীল দেশ গড়ার পিছনে এই সকল ঠুনকো অনুভূতি মারাত্মকভাবে অন্তরায়। মানুষকে নিরন্তর ভীতির মধ্যে রেখে আর যাই হোক, সামনের দিকে এগোনো যায় না, আলোর পথে হাটা যায় না, অন্ধকারকে দূর করা যায় না। বরং চারপাশের অন্ধকার ধেয়ে আসে সুযোগ পেয়ে, গাঢ় থেকে গাঢ়তর হতে থাকে জমাট বাঁধা অন্ধকার। আজকের বাংলাদেশ সেই অন্ধকারের দিকেই হাটছে চোখ বন্ধ করে একগুঁয়ের মতো।