তৌহিদী জনতা সমাজের বিষফুরা !!!!!
By Shiplu
Writer & seeker

'তৌহিদ’ শব্দের মানে হচ্ছে ‘আল্লাহর একত্ব’। এর অর্থ হল যিনি আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করেন। তৌহিদ হলো ইসলামের কেন্দ্রীয়, মৌলিক বিশ্বাস। এ বিশ্বাসকে ভিত্তি ধরে মুসলমানদের ধর্ম সংক্রান্ত অন্যান্য বিশ্বাস, ধর্মীয় চর্চা এবং জীবনাচারণ গড়ে উঠেছে। যিনি তৌহিদে বিশ্বাস করেন না, তিনি মুসলিম নন। অর্থাৎ, পৃথিবীর সমস্ত মুসলিমই হচ্ছেন তৌহিদী। বাংলাদেশের ১৬/১৭ কোটি লোকের মধ্যে অধিকাংশই তৌহিদী জনতা তৌহিদী জনতা নারীদের সন্মান দিতে জানেনা । তারা নারীদের সন্তান জন্মানোর মেশিন ছাড়া আর কিছুই ভাবে না ।
তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল করতে চায় । তারা বলে তাদের বিক্ষোভ মিছিল সবসময় শান্তিপূর্ণ হয় । কিন্তু তাদের কোনো বিক্ষোভই শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ থাকে না । হত্যার হুমকি, ভাঙচুর, হামলা, এমনকি প্রকাশ্যে হত্যা পর্যন্ত গড়ায় । ওয়াজ মাহফিলের মাধ্যমে ক্রমাগত সাম্প্রদায়িক বিদ্ধেষ ছড়িয়ে যাচ্ছে । যেমন- হিন্দুদের পূজার সময় মূর্তি ভাঙলে নাকি অনেক সওয়াব পাওয়া যায় । অন্য ধর্মকে খারাপ বলা জায়েজ এতে সওয়াব হয়।
কথায় কথায় বাংলার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায় । যেমন- বাংলাদেশে ১লা বৈশাকে মঙ্গল শোভাযাত্ৰা করা যাবেনা এটা নাকি হিন্দু কালচার, জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করতে হবে কারণ এটা নাকি হিন্দু কবির (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) লেখা, টিপ পরা খারাপ, কারণ হিন্দুরা টিপ পরে, জল, স্নান এইগুলি হিন্দু শব্দ বলা যাবেনা ইত্যাদি ইত্যাদি ।
তৌহিদী জনতাদের মতে নারীদেরকে পর্দার মধ্যে থাকতে হবে এবং তাদের ভোগ বিলাসের জন্য তৈরী থাকতে হবে । তারা এটাও মনে করে অন্য ধর্মের নারীদের গণিতমাল হিসাবে ব্যবহার করলে সওয়াব পাওয়া যায় । বাংলাদেশের তৌহিদী জনতার একজন অন্যতম জনপ্রিয় বক্তা মৌলানা আব্দুর রাজ্জাক ইউসুফ নারী সম্পর্কে উক্তি করেছেন এইভাবে- নারীর জন্ম হওয়া কলঙ্ক, কুলক্ষণ, অমঙ্গল । নারীর কোনো আত্মা নেই । নারীর জন্ম হয়েছে সেবা করার জন্য । স্বামী স্ত্রী কে বিক্রি করতে পারে । স্ত্রী হচ্ছে বাড়ির সম্পদ, জিনিসের মত । স্ত্রীকে নির্যাতন করা যাবে । এই তৌহিদী জনতারাই নবীর আদেশ অমান্য করে অহরহ, পরের হক মেরে খায়, অত্যাচার করে, লুটপাট করে, বেশ্যার সাথে রাত্রি যাপন করে। অথছ তারাই দোকানে মাংস কেনার সময় হালাল কি না খুঁজে । অতএব এই সকল তৌহিদী জনতা থেকে সাবধান ।

